২০২৪ সালে বায়ুদূষণে প্রতি ঘণ্টায় ৭ জন ইরানির মৃত্যু হয়েছে
২০২৪ সালে বায়ুদূষণে প্রতি ঘণ্টায় ৭ জন ইরানির মৃত্যু হয়েছে
আপডেট সময় :
১০-১১-২০২৫ ১০:২৬:৫৭ অপরাহ্ন
গত বছর ২০২৪ সালের মার্চ থেকে বায়ুদূষণে ইরানে প্রায় ৫৮ হাজার ৯৭৫ জন মারা গেছে। গড়ে প্রতিদিন মৃত্যুবরণ করছেন ১৬১ জন। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় প্রায় সাতজন মারা গেছে বলে দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী রবিবার জানিয়েছেন।
আলিরেজা রাইসি বলেছেন, মৃত্যুগুলো হয়েছে ২.৫ মাইক্রনের চেয়ে ছোট সূক্ষ্ম কণার সংস্পর্শে আসার কারণে।
এই কণা পিএম ২.৫ নামে পরিচিত। বায়ুবাহিত এই ক্ষুদ্র কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে এবং তা শরীরের রক্তপ্রবাহেও প্রবেশ করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘তেইশ শতাংশ ইস্কেমিক হৃদরোগের কারণে, ২১ শতাংশ ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণে, ১৭ শতাংশ দীর্ঘস্থায়ী বাধাজনিত পালমোনারি রোগে, ১৫ শতাংশ স্ট্রোকের কারণে এবং ১৩ শতাংশ নিম্ন শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যু হয়েছে।’
রাইসি বলেন, ২০২৪ সালে বায়ু দূষণের কারণে মৃত্যুর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৭.২ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হয়েছিল।
এই ক্ষতিগুলো প্রতিদিন ৪৭ মিলিয়ন ডলারের সমতুল্য।
রাইসি বলেন, দেশের প্রধান শহরগুলোতে সূক্ষ্ম কণার গড় দৈনিক ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি। ইরানের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসেইন আফশিন বায়ুদূষণের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন, বিশেষ করে শিল্প অঞ্চলে।
আফশিন বলেন, ‘দেশের কেন্দ্রীয় প্রদেশ ইসফাহানে ক্যান্সার এবং মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (এমএস) রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
’ তিনি আরো বলেন, এই অঞ্চলে পুরানো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পরিচালনায় এই সব কণা বৃদ্ধি পায় এবং দূষণকে আরো খারাপ করে।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ইসফাহান প্রদেশে যখন পরিচালিত হয়, তখন বাতাসে কণা পদার্থের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।’ এ ক্ষেত্রে খুজেস্তান প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাইসি বলেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আহভাজ শহরে পিএম২.৫-এর বার্ষিক গড় ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৪২ মাইক্রোগ্রাম পরিমাপ করা হয়েছে—যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত ৫ মাইক্রোগ্রামের প্রায় আট গুণ। এরপর অবস্থান করছে ইসফাহান, তেহরান এবং আরাক।
আহভাজ জুনদিশাপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের ডেপুটি মেহরদাদ শরীফির মতে, খুজেস্তান প্রদেশে গত বছর বায়ু দূষণের কারণে ১ হাজার ৬২৪ জন মারা গেছেন এবং স্বাস্থ্য খাতে ৪২৭ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, গত মাসগুলোতে আহভাজ, দাশত-ই আজাদেগান এবং হোভেইজেহ শহরের বাতাস মাত্র দুই দিনের জন্য স্বাস্থ্যকর ছিল, তিনি আরো বলেন, দূষণজনিত অসুস্থতার কারণে অক্টোবরে ২২ হাজার রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। খুজেস্তানের ডেপুটি গভর্নর রবিবার বলেছেন, প্রদেশের বেশিরভাগ শহরের স্কুলগুলো নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস করবে।
তবে পুরাতন যানবাহন নিষিদ্ধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বিনিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতায়নের আহ্বান এখনও পর্যন্ত উত্তরহীন। সমালোচকরা সতর্ক করে বলেছেন, পদ্ধতিগত পরিবর্তন ছাড়া, তেহরানসহ প্রধান শহরগুলো বায়ুর গুণমান এবং মানবজীবন উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকবে।
সূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Admin
কমেন্ট বক্স